মডেলিং শেখানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ‘সুদর্শন পুরুষ’ হিসেবে পরিচিত এডলফ খানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল শিক্ষার্থী আটক করেছে বলে সামাজিক ও শিক্ষা সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অভিযোগ, এডলফ খান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছাত্র‑ছাত্রীদের কাছ থেকে মডেলিং শেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর তিনি ক্লাস বা প্রশিক্ষণ না দিয়ে সময় টিকিয়ে রেখেছেন এবং দাবি অনুযায়ী শেখানো হয়নি।
ঘটনাটি রাতে ঘটে। ধারাবাহিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার পরে একদল ঢাবি শিক্ষার্থী তাকে কার্জন হল परिसरেই আটক করে ধরে রাখে। প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে ছাত্রদের হাতে অবস্থান করেছিলেন। পরে তিনি টাকা ফেরত দেয়ার জন্য ৩ দিনের সময় চাইলে শিক্ষার্থীরা তাকে ছেড়ে দেয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, এডলফ খানের সাথে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করা হলেও, যে প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা তারা পাননি। এই অনিশ্চয়তার কারণে ক্ষুব্ধ ছাত্ররা প্রয়োজনীয় মূল্য ফেরত নেওয়ার দাবি নিয়ে এডলফকে আটক রাখে এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিষ্পত্তি করতে চাই।
এ সময় যুবকটি কার্জন হল থেকে বাইরে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যম কর্মীরা তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অসমর্থ হন এবং ঘটনাটিকে ঘিরে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এডলফ খান মূলত একজন কোরিওগ্রাফার হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন শোবিজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি থাকলেও তিনি পড়াশোনা বা মডেলিং শিক্ষা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান সম্পর্কে পাঠদানের কোনো প্রমাণসূত্র দেখাতে পারেননি, এমনটাই অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও কর্মী সমাজে এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, যারা মডেলিং বা ক্যারিয়ারের জন্য প্রকৃত প্রশিক্ষণের সন্ধান করছেন, তাদের সঙ্গে এই ধরনের প্রতারণা হলে তা শিক্ষার্থীর বিশ্বাস ও সময় উভয়ের ক্ষতি করে।
তবে ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ এখনো পুলিশে বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি। প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতারণার অভিযোগে এমন ঘটনা সামনে আসলে শিক্ষার্থীদের সতর্ক হওয়া উচিত, এবং যেকোনো প্রশিক্ষণ বা কোর্সের ক্ষেত্রে নিয়মিত দলিল ও প্রমাণ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনাটি ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, ছাত্র সংগঠন এবং অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তা ও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
মডেলিং শেখানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ‘সুদর্শন পুরুষ’ বলে পরিচিত এডলফ খানকে আটক করেছে, পরে ছেড়ে দিয়েছে। এই ঘটনাটি ছাত্র সমাজে প্রতারনা ও সতর্কতার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছে।








