দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষাক্রম, মূল্যায়ন ও মনিটরিং ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্প, ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা চালু এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এনসিটিবি’র মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন প্ল্যাটফর্ম চালু করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষা ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম (DMS)’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং একাডেমিক কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়ন, মনিটরিং রিপোর্ট বিশ্লেষণ এবং পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আগামী অর্থবছরে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইমপ্যাক্ট ইভ্যালুয়েশন’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ, আর্থিক স্বচ্ছতার নীতিমালা প্রণয়ন, জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্তকরণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের র্যাংকিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন:-ইবতেদায়ী মাদরাসা সরকারি করণ হবে কি? সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নেক্সটজেন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, রিয়েল-টাইম মূল্যায়ন এবং উপস্থিতি ও পারফরম্যান্স মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা বিকাশ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।





