তেল সংকটে নতুন উদ্যোগ: পেট্রোল-অকটেন ভোগান্তি কমাতে আসছে কিউআর ‘ফুয়েল পাস’

তেল সংকটে নতুন উদ্যোগ: পেট্রোল-অকটেন ভোগান্তি কমাতে আসছে কিউআর ‘ফুয়েল পাস’

দেশজুড়ে পেট্রোল ও অকটেন সংকটের মধ্যে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। দীর্ঘ লাইন, সীমিত সরবরাহ ও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সৃষ্ট ভোগান্তি কমাতে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে তীব্র সংকটের চিত্র দেখা গেছে। অনেক ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও আবার সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

ঢাকার আসাদগেট এলাকায় এক চালক ফারুক মোল্লা পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর জ্বালানি পান। তার ভাষায়, দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন পরিস্থিতি তিনি আগে কখনও দেখেননি।

অনেক পাম্পে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার কোথাও পেট্রোল-অকটেন না থাকলেও ডিজেল সরবরাহ চালু রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে পেট্রোল-অকটেনের উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত চাহিদা ও আতঙ্ক থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও যুদ্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রয়োজনের বেশি তেল কিনে মজুত করছেন, যার ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

আরো পড়ুন:-উৎপাদন থাকলেও পেট্রোল-অকটেন সংকট কেন? আতঙ্ক, চাহিদা ও সরবরাহে অসামঞ্জস্য

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে প্রতিদিন কয়েক হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন হচ্ছে। এর বড় অংশ আসে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড থেকে। ফলে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

এই অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জ্বালানি বিভাগ চালু করতে যাচ্ছে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহনের জন্য একটি ইউনিক কিউআর কোড তৈরি করা হবে।

ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় সেই কোড স্ক্যান করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সিস্টেমে যুক্ত হবে। এতে কে কখন কতটুকু জ্বালানি নিচ্ছেন, তা সহজেই নজরদারিতে রাখা সম্ভব হবে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা ও মজুতের প্রবণতা কমানো। পাশাপাশি পাম্পে ভিড় কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা।

প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অন্যান্য যানবাহনও এর আওতায় আনা হতে পারে।

ডিজিটাল ফুয়েল পাস পেতে ব্যবহারকারীদের অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চ্যাসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। এরপর মোবাইল নম্বর যাচাই করে ব্যবহারকারী তার নিজস্ব ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে পারবেন।

ড্যাশবোর্ডে থাকবে কিউআর কোড, নির্ধারিত জ্বালানি সীমা এবং পূর্ববর্তী লেনদেনের তথ্য। নির্ধারিত সীমা শেষ হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে আর জ্বালানি নেওয়া যাবে না।

এদিকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। কালোবাজারি ঠেকাতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পাম্পে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ডিজিটাল ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালু করা গেলে বর্তমান সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক বাস্তবায়ন এবং ব্যবহারকারীদের সচেতনতার ওপর।

সব মিলিয়ে, পেট্রোল-অকটেন সংকটের মধ্যে কিউআর ‘ফুয়েল পাস’ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment