দেশের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের আস্থার সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েই সরকার তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
সংসদে বক্তব্যের শুরুতে স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, দেশের জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার ক্ষমতায় আসে এবং তাদের কল্যাণেই কাজ করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
👉আরো পড়ুন:- ২ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত বিভিন্ন কর্মসূচি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এসব কার্যক্রম জাতীয় সংসদের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। সেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অতীতের রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্বে অনেক দলই নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, কেউ কেউ শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েই থেমে গেছেন। তবে বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, গত নির্বাচনে জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেটের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে, তারা বিএনপির বিভিন্ন কল্যাণমূলক পরিকল্পনার প্রতি আস্থা রেখেছে। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো উদ্যোগগুলো জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জনগণের এই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিতে বদ্ধপরিকর। প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বলেও তারা মনে করেন।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের এই অঙ্গীকারকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।








