নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ “জনতার ইশকুল”। বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের উদ্যোগে এই উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় একটি উঠানে আয়োজিত এই সভায় প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা, সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা।
আয়োজকরা জানান, গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনও তাদের মৌলিক নাগরিক অধিকার এবং সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। ফলে অনেক সময় তারা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এই বাস্তবতা থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য “জনতার ইশকুল” নামে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
👉আরও পড়ুন:- নওগাঁ শহরে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান: ১০ জুয়ারী আটক, জব্দ ৪৬ হাজার টাকা
সভায় উপস্থিত নারী ও পুরুষরা খোলামেলা পরিবেশে নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিজ্ঞতা এবং প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। অনেকেই বলেন, এই আয়োজন তাদের মনের সুপ্ত কথাগুলো প্রকাশ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় কয়েকজন নারী অংশগ্রহণকারী জানান, গ্রামে অনেক নারীই সামাজিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। কিন্তু এসব বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ খুব কম পাওয়া যায়। “জনতার ইশকুল” তাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন কর্মসূচি চালু রাখার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে নাগরিক সচেতনতা তৈরি করা এবং নারীদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।”
তিনি আরও বলেন, “এই উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন নারী প্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে, যাকে আমরা ‘অধিকার আপা’ নামে অভিহিত করছি। তিনি স্থানীয় মানুষকে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতন করবেন এবং স্থানীয় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।”
মনিরা শারমিন বলেন, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং সরকারি বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, “জনতার ইশকুল শুধু একটি সভা নয়; এটি একটি সচেতনতামূলক সামাজিক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।”
আয়োজকদের মতে, ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণের মধ্যে এই উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভবিষ্যতে “জনতার ইশকুল” কর্মসূচিকে আরও বৃহৎ পরিসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





