দেশে আবারও বাড়ানো হলো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম। এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে নতুন এই মূল্য ঘোষণা করা হয়, যা চলতি এপ্রিল মাসজুড়ে কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন ঘোষণায় দেখা গেছে, শুধু সিলিন্ডার গ্যাস নয়, অটোগ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে প্রায় ১৮ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
👉আরো পড়ুন:-জ্বালানি ফুরানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ! আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উদ্বেগ
এর আগে গত ২ মার্চ সর্বশেষ এলপিজির মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দাম সামান্য কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ওঠানামার কারণে দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। ফলে আমদানিনির্ভর এই জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এদিকে হঠাৎ করে গ্যাসের এমন বড় মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য রান্নার খরচ আরও বেড়ে গেল। পাশাপাশি পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা, কারণ অটোগ্যাসচালিত যানবাহনের খরচও বাড়বে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নতুন দামের কারণে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রয় কিছুটা কমতে পারে। অনেক পরিবার বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এলপিজির এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এখন দেখার বিষয়, আগামী মাসগুলোতে এই দাম আরও সমন্বয় করা হয় কিনা।








