মাদ্রাসাগুলোতে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে নির্দেশ

মাদ্রাসাগুলোতে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে নির্দেশ

দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ২০২৬ এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপনের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। দিবস দুটি উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে দেশের সব মাদ্রাসায় যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে দিবস দুটি পালন করতে হবে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মাদ্রাসাগুলোতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। ওই দিন সুবিধাজনক সময়ে জাতির ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলোচনা সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতার পেছনের ত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে।

👉আরো পড়ুন:- হাফেজদের সম্মান ও স্বীকৃতিতে গুরুত্বারোপ শিক্ষামন্ত্রীর

এছাড়া ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মাদ্রাসাগুলোতে বেশ কিছু কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরতে ওই দিন সকাল ৮টার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি সকল মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক কার্যক্রম আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, হামদ-নাত এবং কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেতে পারে। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে মাদ্রাসাগুলোতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আলোচনা সভায় মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার গুরুত্ব এবং শহীদদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর মনে করছে, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস সম্পর্কে আরও সচেতন হবে এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা অনুযায়ী সব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এ নির্দেশনা দেশের সব সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা, স্বীকৃত বেসরকারি মাদ্রাসা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসার, উপপরিচালক এবং মাদ্রাসা সুপারদের বিষয়টি তদারকির জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় দিবস উদযাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও ইতিহাসচেতনা জাগ্রত হবে এবং তারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment