দেশে জ্বালানি খাতে বাড়তি চাপ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালু, সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধি এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য হোম অফিস চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ। এ বিষয়ে আজ (২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত পদ্ধতি চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরো পড়ুন:- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬ দিন ক্লাস, ৩ দিন অনলাইন—নতুন সিদ্ধান্তে শিক্ষা কার্যক্রমে পরিবর্তন
তিনি আরও জানান, বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাসে নেওয়ার প্রস্তাব আলোচনা করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আজকের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ডলার সংকটের কারণে সরকার কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নানা পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সরকারি অফিসগুলোতে সপ্তাহে এক বা দুই দিন হোম অফিস চালুর প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটিতে অতিরিক্ত একদিন যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে করে জ্বালানি ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, অফিস সময় কমিয়ে আনা বা কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার বিষয়টিও আলোচনার মধ্যে রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে বিধিনিষেধ আরোপ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদী এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর হতে পারে। করোনাকালে অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিসের অভিজ্ঞতা থাকায় এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন তুলনামূলক সহজ হবে বলেও তারা মনে করছেন।
একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি জটিল হলে ছয় মাস বা এক বছর মেয়াদী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হতে পারে।
এদিকে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় ঋণ পরিহার এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের মতো পদক্ষেপও এই পরিকল্পনার অংশ।
উল্লেখ্য, আজকের মন্ত্রিপরিষদের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, অফিস কার্যক্রম এবং সাপ্তাহিক ছুটির কাঠামোতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে। ফলে এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।






