দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মায় বাস ডুবে নিহত অন্তত ২৪
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। এ সময় হঠাৎ করে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পন্টুনের পাশ দিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ সদস্যরা। পরে ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় বাসের ভেতর থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা অন্তত ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে। আহত কয়েকজনকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন নারী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আরো পড়ুন- দেশ ও জাতির উন্নয়নে সাংবাদিকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: এমপি শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু
উদ্ধারকারী ডুবুরি দলের সদস্যরা জানান, নদীর তলদেশে বাসটি গভীর পানিতে আটকে থাকায় উদ্ধার কাজ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখনও কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে বাসটি সোজা নদীতে পড়ে যায়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় ঘাট এলাকায় থাকা অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই দ্রুত নদীতে ঝাঁপ দিয়ে যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। স্থানীয় জেলেরা নৌকা নিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহন ওঠানামার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকার অভিযোগ বহুদিনের। এই দুর্ঘটনার পর আবারও ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেরিতে যানবাহন ওঠানামার সময় কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।
এদিকে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধানে ডুবুরি দল ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।




