দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং শিক্ষা প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এ খাতের উন্নয়নে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ১৮০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও বলা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ উন্নত করতে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করার কথাও সভায় উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, সরকারের শিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও মানসম্মত শিক্ষা লাভ করবে।
এদিকে শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ ও কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রাথমিক শিক্ষাই একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে।
তারা আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারের গৃহীত এই ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে এবং দেশের শিক্ষার্থীরা একটি উন্নত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সুবিধা পাবে।







