সংসদে উঠছে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের তথ্য, ৮ এপ্রিল জানাবেন শিক্ষামন্ত্রী

সংসদে উঠছে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের তথ্য, ৮ এপ্রিল জানাবেন শিক্ষামন্ত্রী

দেশের যেসব গ্রামে এখনো কোনো বিদ্যালয় নেই, সেইসব গ্রামের হালনাগাদ তথ্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, আগামী ৮ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক। এজন্য দেশের সব উপজেলা ও থানার আওতাধীন বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। চিঠিটি বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ করে পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

👉আরো পড়ুন:-২ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক মাহফুজা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাঠ পর্যায়ে ইতোমধ্যে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রাপ্ত তথ্যগুলো একত্রিত করে বিশ্লেষণ করছি, যাতে নির্ভুলভাবে জানা যায় কোন কোন গ্রামে এখনো বিদ্যালয় নেই।”

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার সব উপজেলা ও থানার বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। সেই তালিকায় গ্রামের নাম, মোট জনসংখ্যা এবং চার থেকে ২০ বছর বয়সী শিশু-কিশোরের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া সংগৃহীত তথ্য নির্ধারিত ছক অনুযায়ী আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে নির্দিষ্ট ই-মেইল ঠিকানায় এক্সেল ফরম্যাটে পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ডাকযোগেও তথ্য প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো তথ্য বাদ না পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্যের ভিত্তিতে সরকার নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এখনো যেসব এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপন করা সম্ভব হয়নি, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী শিশুদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি মৌলিক দায়িত্ব।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে শিক্ষার প্রসার আরও ত্বরান্বিত হবে।

উল্লেখ্য, সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও সংসদে উপস্থাপনের এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment