আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণের পরবর্তী কিস্তি পেতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, লিটারপ্রতি তেলের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সরকারের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
চলতি মাসের ১৩ এপ্রিল International Monetary Fund এবং World Bank–এর বসন্তকালীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ওয়াশিংটনে। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে আইএমএফের ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা গেছে, বৈঠকের আগেই আইএমএফের শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, উচ্চমূল্যে তেল আমদানি করে দীর্ঘদিন ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব নয় এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সূত্র বলছে, জ্বালানি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। এ লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করে দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন মিললেই তেলের নতুন দাম কার্যকর হতে পারে।
এদিকে জ্বালানি খাতে প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এই চাপ আরও বেড়েছে।
আরো পড়ুন:- তেল সংকটে নতুন উদ্যোগ: পেট্রোল-অকটেন ভোগান্তি কমাতে আসছে কিউআর ‘ফুয়েল পাস’
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আইএমএফের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির অন্যতম শর্ত ছিল আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা। যদিও গত দুই বছর এই শর্ত মানা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। এতে আইএমএফের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হঠাৎ করে তেলের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং ঋণের কিস্তি দ্রুত পাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কারণে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বৈঠকে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখাতে না পারলে ঋণের পরবর্তী কিস্তি পাওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়টি এখন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।









