দেশে অনলাইন ও সশরীর (অফলাইন) ক্লাস চালু রাখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আভাস দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়–এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন—স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস কীভাবে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা তৈরি করতে।
তিনি বলেন, “আমরা আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসবো। সেখানে আলোচনার ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ক্যাবিনেট।”
আরো পড়ুন:- প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে শেষ সময়ে ৪১ হাজার আবেদন, পরীক্ষা ১৮ এপ্রিল
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত শুধু সরকারের একতরফা হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। “স্টেকহোল্ডারদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ভিউ ক্যাবিনেটে উপস্থাপন করা হবে, এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে,”—যোগ করেন তিনি।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং বিশ্বব্যাপী একটি সংকট। “বিশ্বের বিভিন্ন দেশই জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরাও সেই দিকেই এগোচ্ছি,”—বলেন তিনি।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, অনলাইন ক্লাস চালু বা আংশিক অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত পদ্ধতি চালু হতে পারে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানির ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানও অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
এদিকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয় থাকলে হাইব্রিড (অনলাইন-অফলাইন) শিক্ষা পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।
এখন সবার দৃষ্টি স্টেকহোল্ডার বৈঠক ও পরবর্তী মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে দেশের শিক্ষা কার্যক্রমের পরবর্তী দিকনির্দেশনা।




