শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, শিশুর বর্ণনায় উঠে এলো ভয়াবহ তথ্য

নেত্রকোণায় মাদরাসা শিশুর ধর্ষণ

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক শিশু-কিশোরের শৈশব নিঃশেষ হয়ে গেছে তার নিজের মাদরাসা শিক্ষকের নির্যাতনের কারণে। ভুক্তভোগী ১২ বছরের এক মাদরাসাছাত্রী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অভিযোগ, হযরত ফাতেমাতুজ জোহরা (র.) কওমি মহিলা মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করছিলেন। শিশুটি জানিয়েছে, টিফিনের সময় বা ছুটির পর মসজিদে ঝাড়ু দেওয়ার নামে ডেকে নিয়ে যেতেন শিক্ষক, মাদরাসার কক্ষে আটকে রেখে চলত পাশবিকতা। মুখ খোলার চেষ্টা করলে প্রাণনাশের হুমকি দিতেন। ভয়, টাকা প্রলোভন ও মামার কাছে বিচার দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন এ ঘটনা আড়াল রাখা হয়। শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করায় পরিবারের খোঁজখবর ছিল সীমিত। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে মা তাকে গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা করে জানা যায়, শিশুটি রক্তস্বল্পতায় ভুগছে এবং গর্ভস্থ শিশুর মাথার পরিমাণ তার সরু কোমরের তুলনায় অনেক বড়, ফলে তার ও সন্তান দুজনের জীবন বিপদে। গর্ভস্থ শিশুর বয়স প্রায় ২৭ সপ্তাহ এবং ভুক্তভোগী ১২ বছর বয়সী, উচ্চতা সাড়ে চার ফুটের কম, ওজন মাত্র ২৯ কেজি। চিকিৎসকের মতে, স্বাভাবিক ডেলিভারি প্রায় অসম্ভব, শুধু ‘ক্র্যানিওটমি’ বা বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে জন্ম সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ- মহিলা মাদরাসায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ১০ দফা প্রস্তাব, আলেম সমাজের জোরালো আহ্বান

ভুক্তভোগী শিশুটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, শিক্ষক তাদের দুই পাশে বসিয়ে বলত, “এটা আমার আম্মু, ওটা আমার বউ” এবং হাতে-গায়ে ছুঁয়ে আসছিল। ঘটনার পর শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর পলাতক। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় দায় অস্বীকার করেছেন এবং পরিবারের দিকে আঙুল তুলেছেন। মামলার দ্বিতীয় আসামি ও অভিযুক্তের ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া জামিনে রয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামুন মিয়া মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

স্থানীয় আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। একজন স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষক বলেন, একজনের অপরাধের দায় পুরো সমাজ নিতে পারে না, দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ইউপি সদস্য সোহেল রানা অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিবারের প্রতি হুমকি দেওয়া হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদরাসাটি বর্তমানে বন্ধপ্রায়। শিক্ষক ও ইমামের উপর এলাকার মানুষ ভরসা রাখলেও এই জঘন্য ঘটনায় পুরো উপজেলা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

তথ্য সূত্র

  • RTV Online: “শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, শিশুর বর্ণনায় উঠে এলো ভয়াবহ তথ্য”
  • স্থানীয় পুলিশ ও গাইনি বিশেষজ্ঞ সাক্ষাৎকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment