এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা নিশ্চিত করার দাবিতে আবারও মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। সংগঠনটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাবি আদায়ে রাজপথে নামা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। শনিবার (০২ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতা, উৎসব ভাতা এবং ১৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া আদায় সম্ভব হয়েছে, যা কোনোভাবেই সহজে অর্জিত হয়নি; বরং দীর্ঘদিনের সংগঠিত আন্দোলন ও দাবি আদায়ের ফলেই এসব বাস্তবায়ন হয়েছে। তার মতে, এই অর্জনগুলো প্রমাণ করে যে দাবি আদায়ে সংগঠিত আন্দোলনের বিকল্প নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাড়ি ভাড়া ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু হলে বিভিন্ন মহল থেকে সেটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ- শিক্ষা খাতে গভীর সংকট, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনায় এগোচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
অনেকেই তখন ধারণা দিয়েছিলেন যে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে কোনো আন্দোলন ছাড়াই এসব দাবি পূরণ হবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইতোমধ্যে একটি ঈদুল ফিতর অতিবাহিত হয়েছে এবং সামনে ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলেও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা বা অগ্রগতি দেখা যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অধ্যক্ষ আজীজি মনে করেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আবারও সংগঠিত আন্দোলনে নামা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “শতভাগ উৎসব ভাতা নিশ্চিত করতে হলে খুব দ্রুত নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা প্রয়োজন হতে পারে।” সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই ঘোষণার ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু হতে পারে এবং বিষয়টি শিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে আসবে। শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির দাবি দীর্ঘদিনের এবং এটি শিক্ষক সমাজের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদি দ্রুত কোনো সমাধান না আসে, তবে আসন্ন সময়েই বড় ধরনের আন্দোলনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজির ফেসবুক পোস্ট









