দেশের সব ধরনের শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, বর্তমান সময়ে সরকারি, বেসরকারি, এনজিও এবং মাদ্রাসাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে পরিচালিত হওয়ায় শিশুদের মধ্যে শিক্ষাগত বৈষম্য বাড়ছে এবং সুষ্ঠু বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষাবিদ মো. সিদ্দিকুর রহমান এক মতামতধর্মী লেখায় বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও শিশু শিক্ষায় এখনো একটি সমন্বিত ও শিশুবান্ধব নীতিমালা গড়ে ওঠেনি। ফলে একেক প্রতিষ্ঠানে একেক ধরনের পাঠ্যক্রম, সময়সূচি, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও সুযোগ-সুবিধা চালু রয়েছে, যা শিশুদের জন্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করছে।
আরও পড়ুনঃ- নুরুল ইসলাম মণি এমপির সঙ্গে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নিয়ে বৈঠক, বিস্তারিত আসছে শিগগিরই
তিনি বলেন, “অভিন্ন নীতিমালার অভাবে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা অল্প বয়সেই অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ছে।”
একক কর্তৃপক্ষের অধীনে আনার প্রস্তাব
শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের সব ধরনের শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের অধীনে আনা উচিত। এতে নীতিমালার সমন্বয় হবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন সহজ হবে।
প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিশ্চিতের ওপর জোর
মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিশু শিক্ষায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। কারণ শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অভিন্ন পাঠ্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রম
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সংগীত—এসব বিষয় সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে শিশুদের সৃজনশীলতা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন তিনি।
শিশুবান্ধব সময়সূচির প্রয়োজনীয়তা
শিশুদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকা জরুরি, যেখানে দুপুর ২টার মধ্যে পাঠদান শেষ হবে। এতে তারা বিশ্রাম, খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ পাবে, যা তাদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক হবে।
অতিরিক্ত শিক্ষার চাপ কমানোর আহ্বান
৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জটিল পাঠ্যক্রম, অতিরিক্ত হোমওয়ার্ক এবং ভারী স্কুল ব্যাগ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং আনন্দঘন পরিবেশে শেখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি
প্রতিটি শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোলা পরিবেশ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, খেলার মাঠ এবং বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শহরের অনেক কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠান অনুপযুক্ত পরিবেশে পরিচালিত হওয়ায় তা পুনর্বিন্যাস বা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
বৈষম্য দূরীকরণে দ্রুত উদ্যোগের আহ্বান
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিশু শিক্ষায় বৈষম্য দূর না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তাদের মতে, “শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের জন্য একটি সমতাভিত্তিক, আনন্দময় ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
তথ্যসূত্র: মো. সিদ্দিকুর রহমানের মতামতধর্মী লেখা, দৈনিক শিক্ষাডটকম








