দেশের শিক্ষা খাতে বিদ্যমান বাস্তব সমস্যাগুলোকে সামনে এনে তা সমাধানে সরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জনাব ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা এখনো পর্যাপ্ত নয়, যা শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা খাতের বাস্তব সমস্যাগুলো অনেক গভীর। কোথাও একটি বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার নেই, আবার কোথাও বিদ্যালয়ের জমি সংকট রয়েছে। এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, যা সমাধানে সময়সাপেক্ষ হলেও সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
আরও পড়ুনঃ- অভিন্ন নীতিমালায় চলুক সব শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শিক্ষাবিদের জোর দাবি
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ, শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং খেলার মাঠসহ শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শুধুমাত্র পাঠ্যক্রম নয়, বরং বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, দেশের অনেক বিদ্যালয়ে এখনও মৌলিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে এই সমস্যা বেশি প্রকট। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধান করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি, যাতে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পায় এবং একটি উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, শিক্ষা খাতের এসব দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
তথ্যসূত্র: কালবেলা (ছবির বক্তব্য)








