মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এপ্রিল ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ছাড় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে এ অর্থ বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময় থেকে তাদের বেতন উত্তোলন করতে পারবেন।
সম্প্রতি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এপ্রিল ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ৪টি চেকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো—অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড এবং রূপালী ব্যাংক লিমিটেড।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব চেক ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ৪ মে ২০২৬ থেকে নিজ নিজ হিসাবের মাধ্যমে বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসের মতো এবারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন ছাড় করায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেক শিক্ষকই দীর্ঘদিন ধরে সময়মতো বেতন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে এপ্রিল মাসের বেতন নির্ধারিত সময়েই ছাড় হওয়ায় তাদের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে।
আরও পড়ুনঃ- নেত্রকোনায় মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, শিশু ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে বেতন-ভাতা প্রদানে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ সময়মতো পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
অধিদপ্তরের অর্থ শাখার কর্মকর্তারা জানান, বেতন ছাড়ের ক্ষেত্রে এবারও স্বাভাবিক নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত ব্যাংকগুলোতে অর্থ প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষকরা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সহজে বেতন উত্তোলন করতে পারেন।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলছেন, সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান শিক্ষকদের মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সরকার একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই বেতন প্রদান নিশ্চিত করবে।
এদিকে, অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন, সময়মতো বেতন পাওয়া গেলে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহ করা সহজ হয় এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও মনোযোগী হওয়া যায়। তাই বেতন-ভাতা নিয়মিত ও সময়মতো দেওয়ার বিষয়ে তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক স্থিতিশীলতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো বেতন প্রদান এ ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করে।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অর্থ) ড. কে এম শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীরা নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারবেন।





