বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। শিক্ষকদের বদলি (ট্রান্সফার) কার্যক্রম চালু করতে মৌখিক সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে এতদিনের জটিলতা কাটিয়ে বদলি কার্যক্রম চালুর পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে বদলি চালুর বিষয়ে সম্মতি দেন।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শিক্ষকদের বদলি চালুর জন্য সংশোধিত নীতিমালা প্রায় প্রস্তুত রয়েছে। এখন প্রয়োজন কেবল নীতিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন এবং একটি কার্যকর সফটওয়্যার সিস্টেম তৈরি করা। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে।
তবে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে—নীতিমালার সংশোধিত ফাইল পুনরায় অনুমোদনের জন্য তোলা হয়েছে—তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকেল পর্যন্ত এমন কোনো ফাইল পুনরায় অনুমোদনের জন্য তোলা হয়নি। এর আগে একটি ফাইল অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও সেটি শিক্ষা সচিব অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠান। এরপর থেকে নতুন করে ফাইল উত্থাপনের প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।
জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির সুযোগ আগে সীমিত পরিসরে ছিল। এনটিআরসিএর প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আবেদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে এ সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে হাজার হাজার শিক্ষক কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন, যা তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় আন্দোলনে নামেন এবং বদলি চালুর দাবি জোরালো করেন। তাদের দাবি ছিল, সরকারি শিক্ষকদের মতো বেসরকারি শিক্ষকদের জন্যও একটি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক বদলি ব্যবস্থা চালু করা হোক। সেই প্রেক্ষাপটেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বদলি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়।
তবে বাস্তবায়নের পথে নানা জটিলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে সফটওয়্যার প্রস্তুত না থাকা এবং নীতিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় এ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি শিক্ষকদের জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত নীতিমালা চূড়ান্ত করে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে খুব শিগগিরই বদলি কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এতে শিক্ষকরা নিজের সুবিধাজনক স্থানে বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা তাদের কর্মদক্ষতা ও মানসিক স্বস্তি বাড়াতে সহায়ক হবে।
শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে সন্তুষ্টি তৈরি হবে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস










