মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে কর্মশালা, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি

মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক করতে কর্মশালা, উঠল ইবতেদায়ি জাতীয়করণের দাবি

মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। আগামী ৯ মে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এই কর্মশালাকে ঘিরে শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, এনসিটিবি, এনটিআরসিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মশালাকে মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কর্মশালায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. নুরুল হুদা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এনসিটিবি ও এনটিআরসিএ প্রতিনিধিসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবিদরা অংশ নেবেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে কর্মশালা বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইবতেদায়ি শিক্ষা উন্নয়নের মহাসচিব মো. রেজাউল হক বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ বিষয়ক এই কর্মশালা বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমরা এই আয়োজনকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি এবং এজন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানাই।”

তবে একইসঙ্গে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মশালায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি।”

আরও পড়ুনঃ- প্রাথমিকের আওতায় আসছে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

তিনি আরও বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হলে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণের কোনো বিকল্প নেই। কারণ দেশের গ্রামীণ পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিক ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করছে। অথচ শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নানা বৈষম্যের শিকার।”

মো. রেজাউল হক আশা প্রকাশ করে বলেন, “এই কর্মশালায় অবশ্যই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার সমতা আনতে হলে প্রাথমিক পর্যায়ের এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দক্ষতা ও কর্মমুখী করার যে উদ্যোগ চলছে, সেখানে মাদ্রাসা শিক্ষাকেও সময়োপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে দক্ষতা, প্রযুক্তি জ্ঞান এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণের সমন্বয় ঘটাতে না পারলে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে পিছিয়ে পড়বে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কর্মশালায় মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। একইসঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার কাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এই উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের বাদ পড়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের প্রাথমিক স্তরের মাদ্রাসা শিক্ষাকে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকেও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।

>কর্মশালার চিঠি দেখতে ক্লিক করুন<

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অফিস আদেশ ও ইবতেদায়ি শিক্ষা উন্নয়নের মহাসচিব মো. রেজাউল হকের বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment