কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের জন্য বড় সুখবর এসেছে। সরকারি আলিয়া মাদরাসায় চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। এখন থেকে আলিয়া মাদরাসার ‘সহকারী মৌলভী (মুজাব্বিদ/কারী)’ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিস সনদকে শিক্ষাগত যোগ্যতার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে শিগগিরই সারা দেশে ১৩ হাজারের বেশি সহকারী মৌলভী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথাও জানানো হয়েছে।
বুধবার (০৬ মে) কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় অংশ নেয় কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কো-চেয়ারম্যান শায়খ সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
আরও পড়ুনঃ- নুরুল ইসলাম মণি এমপির সঙ্গে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নিয়ে বৈঠক, বিস্তারিত আসছে শিগগিরই
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘সহকারী মৌলভী (মুজাব্বিদ/কারী)’ পদে আবেদন করতে হলে আল-হাইআতুল উলয়ার দাওরায়ে হাদিস সনদের পাশাপাশি অধীনস্থ ছয় বোর্ডের ‘ইলমে কেরাত’ অথবা ‘তাহফীজুল কুরআন’-এর সনদ থাকতে হবে। জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী এ পদের বেতন গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ম গ্রেডে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কওমি ও আলিয়া ধারার মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব অনেকটাই কমবে এবং কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি চাকরির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে শিগগিরই ‘নতুন কুঁড়ি জাতীয় ক্বিরাআত ও হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬’ আয়োজন করা হবে। ‘কুরআন পড়, জীবন গড়’ স্লোগানে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় স্কুল, আলিয়া ও কওমি মাদরাসার ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতা জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং অভিজ্ঞ হাফেজ ও ক্বারীদের বিচারক হিসেবে রাখা হবে।
সভায় কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদল জানায়, বিভিন্ন বোর্ডের অধীনে নিয়মিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এটিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে সভায় মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর বিরুদ্ধে আইনি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি আলেম ও বোর্ডসমূহের সক্রিয় উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়।
সভায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়, MyGov প্ল্যাটফর্মে Apostille পদ্ধতিতে দাওরায়ে হাদিস সনদ সত্যায়নের বিষয়ে সরকারের আইসিটি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। সচিব মো. দাউদ মিয়া এ বিষয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে কওমি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে।
তথ্যসূত্র: অনলাইন ডেস্ক








