দেশে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ জোরদার করতে পবিত্র কোরআনের হাফেজদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কোরআনের হাফেজরা ইসলামের মূল শিক্ষা ও আদর্শকে ধারণ করে সমাজে ছড়িয়ে দেন। তাই তাদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং সমাজে সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
সোমবার (২৪ মার্চ) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন মুসলমানদের জীবন পরিচালনার মূল দিকনির্দেশনা। যারা কোরআন হিফজ করেন, তারা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার ধারকই নন, বরং সমাজে নৈতিকতা, আদর্শ এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কোরআনের হাফেজরা ইসলামী শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও হিফজখানায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী দিন-রাত পরিশ্রম করে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করছে। এই শিক্ষার্থীদের মেধা, শ্রম এবং ত্যাগকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
👉আরো পড়ুন:- নওগাঁতে ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ, পুলিশের হাতে আটক যুবক
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনের হাফেজরা সমাজে ন্যায়, সততা এবং মানবিকতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই তাদের সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
তিনি বলেন, কোরআনের হাফেজদের শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তাদের জন্য উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং বিভিন্ন পেশায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এতে করে তারা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষকরাও হাফেজদের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে হাফেজদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, বৃত্তি ও সম্মাননার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে তরুণ প্রজন্ম কোরআন হিফজ করার প্রতি আরও আগ্রহী হবে।
তারা আরও বলেন, সমাজে অনেক সময় কোরআনের হাফেজদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। অথচ তারা ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই তাদের সম্মান দেওয়া শুধু ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং সামাজিক দায়িত্বও।
বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য হিফজখানা ও মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা কোরআনের হাফেজদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।






