দাবি আদায়ে কঠোর অবস্থানে শিক্ষকরা: ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার ডাক
অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্তি এবং বকেয়া বেতন ছাড়ের দাবিতে এবার কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মাদরাসা শিক্ষকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ‘ঈদ বর্জন’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আগামী ঈদের দিন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা করবেন। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে চলমান লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
টানা আন্দোলন ও মাদরাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটি’র ব্যানারে গত বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা পঞ্চম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। আন্দোলনকারী শিক্ষকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে।
এর আগে গত রোববার দুপুরে শিক্ষকরা তাদের দাবি নিয়ে সচিবালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। এরপরই রাতে শিক্ষক নেতারা জরুরি বৈঠকে বসেন এবং ঈদ বর্জনসহ মাদরাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘বন্ধ’ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
আশ্বাস পূরণের দাবি শিক্ষক নেতাদের সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল হান্নান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করার যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। সরকারের দেওয়া আশ্বাস পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আমরা এবার খালি হাতে ঘরে ফিরব না। প্রয়োজনে ঈদ বর্জন করে রাজপথেই অবস্থান করব এবং ঈদের দিন আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা করব।”
ছুটির মধ্যেও অচলাবস্থার শঙ্কা উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। দেশের সব মাদরাসায় গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলবে। এরপর ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শিক্ষকদের এই কঠোর অবস্থানের কারণে ছুটির পর মাদরাসাগুলো আদৌ খুলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘদিনের বৈষম্যের চিত্র ইসলামি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে গঠিত আলিয়া মাদরাসা পদ্ধতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমান হিসেবে ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে এই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর গোড়াপত্তন হয়। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। তবে বর্তমানের এই চরম মূল্যস্ফীতির বাজারেও এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা প্রতি মাসে মাত্র ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা মাত্র ৩ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান পেয়ে আসছেন, যা অত্যন্ত অমানবিক এবং বৈষম্যমূলক বলে দাবি আন্দোলনরত শিক্ষকদের।
আরও পড়ুন- এমপিও বাস্তবায়ন ও অনুদান ছাড়ের দাবিতে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের মানববন্ধন






