শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের সংকট কাটাতে বড় উদ্যোগ, বছরে ২০০ কোটি বরাদ্দের চিন্তা

শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের সংকট নিরসনে বড় উদ্যোগ, ২০০ কোটি বরাদ্দের পরিকল্পনা

শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট নিরসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ট্রাস্টের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ, আয়বর্ধক প্রকল্প এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মৌখিক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ট্রাস্টের কার্যক্রম গতিশীল করতে জাতীয় বাজেট থেকে প্রতি অর্থবছরে ন্যূনতম ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা দ্রুত ও সহজভাবে পৌঁছে দিতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদারের ফলে সেবা প্রদানে গতি ও স্বচ্ছতা বেড়েছে।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টকে একটি আয়বর্ধক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ট্রাস্টের নিজস্ব ভবন ও শিক্ষা কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ট্রাস্টের জন্য নিয়মিত আয়ের উৎস তৈরি করবে।

আরও পড়ুনঃ- শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে বড় পরিকল্পনা, সংসদে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

এছাড়া ট্রাস্টকে আয়করমুক্ত প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ট্রাস্টের আর্থিক সংকট কাটাতে শুধু সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

ডিজিটাল সেবার বিষয়ে তিনি জানান, ২০১৮ সাল থেকে শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ট্রাস্টকে আইবাস ডাবল প্লাস (iBAS++) সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর ফলে এখন শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধার অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। এতে মধ্যবর্তী জটিলতা কমেছে এবং অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা ও গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধা প্রদান করা। ভবিষ্যতে ছয় মাসের মধ্যে এসব সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য কাজ চলছে।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে দীর্ঘ সময় লাগা, জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। নতুন উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ট্রাস্টের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সহায়তা পাবেন। একই সঙ্গে শিক্ষক সমাজের মধ্যে আস্থা বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল সিস্টেম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা গেলে শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট একটি টেকসই প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।

🧾 তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ অধিবেশন ও দৈনিক শিক্ষাডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment