এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রশ্নফাঁসের প্রচারণাকে ‘গুজব’ আখ্যা দেওয়ার পর এবার সেই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতা ফয়সল মাহমুদ শান্ত।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সল মাহমুদ শান্ত এ প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিটি স্বপ্রণোদিত নয়; বরং একটি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে।
তার দাবি, সময় টেলিভিশনের একটি প্রায় তিন মিনিটের ডকুমেন্টারির ওপর ভিত্তি করেই তারা বিষয়টি নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।
আরও পড়ুন:- প্রশ্নফাঁস নিয়ে এনসিপির বক্তব্যে নিন্দা, গুজব প্রমাণিত দাবি শিক্ষামন্ত্রীর
ফয়সল মাহমুদ শান্ত আরও উল্লেখ করেন, তাদের বিবৃতিতে সরাসরি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি, বরং ‘সুষ্ঠু তদন্তের’ দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক অবস্থান।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে হতাশা থেকেই তারা বক্তব্য দিয়েছেন এবং এতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, সময় টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সরিয়ে নিয়েছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তিনি বলেন, যদি সংবাদটি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে সেটির ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত ছিল অথবা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, নতুন বাংলাদেশের শিক্ষা উন্নয়নে এনসিপি বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করতে চায় না, বরং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী তার পূর্ববর্তী বক্তব্যে দাবি করেন, প্রশ্নফাঁসের প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং যাচাই-বাছাই ছাড়াই কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
তিনি এনসিপির বক্তব্যকে ‘নিন্দনীয়’ ও ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁসের নামে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে যাচাইবিহীন তথ্য ছড়ানো হলে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
🧾 তথ্যসূত্র: ফেসবুক পোস্ট (ফয়সল মাহমুদ শান্ত), পূর্ববর্তী শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য







