বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম, এমনকি জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন—সব মিলিয়ে অনেক দেশই চাপের মুখে পড়েছে। তবে আমদানি-নির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত অনেকাংশেই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং ডলার সংকট দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
👉আরো পড়ুন:-এপ্রিলেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে গেলে রপ্তানি আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে, সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ী নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো, আংশিক অনলাইন কার্যক্রম চালু করা এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের মতো উদ্যোগ আলোচনায় রয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং অন্যান্য টেকসই উৎসের ব্যবহার বাড়ানো হলে দীর্ঘমেয়াদে সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে।
এছাড়া জ্বালানি খাতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, অপচয় রোধ এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, স্বল্পমেয়াদী সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে অনেক দেশই জ্বালানি সংকটে পড়েছে। তবে বাংলাদেশকে ঘিরে এমন আশঙ্কা সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।






