শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এসব নির্দেশনার মধ্যে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জারি করা এক চিঠিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে এবং এ সময়ের মধ্যে কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রম যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অফিসের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এই সময়সীমাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করে জানালা ও দরজা খুলে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অফিস চলাকালীন প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
👉আরো পড়ুন:- বিনামূল্যে স্কুল ড্রেসে বৈষম্য নয়: ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগের দাবি
এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে হবে, যাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়। এছাড়া অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
অফিস সময় শেষে লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমের মতো স্থানে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারি নির্দেশনা ছাড়া অতিরিক্ত আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে এবং জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে অফিসের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি খাতে চাপ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এনে এই নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে অফিস ব্যবস্থাপনাও আরও সুশৃঙ্খল হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ সময়োপযোগী। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি দেশের জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নতুন নির্দেশনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।







