বাংলাদেশে এখনো ২ হাজার ৮৪৭টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তবে এখনো কিছু গ্রাম রয়েছে যেখানে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কাজ চলছে। তবে দুর্গম এলাকা, জনসংখ্যা কম থাকা বা ভৌগোলিক জটিলতার কারণে কিছু স্থানে বিদ্যালয় স্থাপন এখনো সম্ভব হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রতিটি শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনা। এজন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিয়ে ধাপে ধাপে বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।”
আরো পড়ুন:-স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ নেতৃবৃন্দ, গঠিত হলো ওয়ার্কিং কমিটি
সংসদে এ তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এ ধরনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বিদ্যালয় নির্মাণ নয়, সেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষাসামগ্রী ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে এসব গ্রামে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। এতে করে শিক্ষার বৈষম্য কমবে এবং প্রত্যেক শিশুর জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।









