শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে বড় পরিকল্পনা, সংসদে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে বড় পরিকল্পনা, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য কমিয়ে মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে একাধিক বড় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে তিনি শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৮ হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৯২৩টি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত সরকার প্রদান করছে। তবে ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে হলে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, শিক্ষার মান, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ- এসএসসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনেই বহিষ্কার ১৯ পরীক্ষার্থী, অনুপস্থিতি ১.১০%

মন্ত্রী জানান, “ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব” কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের হাতে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা চালু, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে শহর ও গ্রামের শিক্ষার মধ্যে বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এছাড়া শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সমন্বয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রচলন করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ‘ইথিক্স এডুকেশন’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, এ লক্ষ্যে ডকুমেন্টারি তৈরি, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকেও সমৃদ্ধ হতে পারে।

এছাড়া বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে ‘বিসিএস শিক্ষা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “নেক্সটজেন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রকল্প” বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক রূপ দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, রিয়েল-টাইম লার্নিং সিস্টেম, ইউনিফাইড মূল্যায়ন ব্যবস্থা, উপস্থিতি মনিটরিং এবং শিক্ষক পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য আধুনিক টুলস তৈরি করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য কমবে এবং শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাবে। তবে তারা কার্যকর বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ অধিবেশন ও দৈনিক শিক্ষাডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment