নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জাল সনদ ব্যবহার করে মাদরাসায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগে দুই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো দুই শিক্ষক হলেন— মনকান্দা এমইউ আলিম মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মো. অলি উল্লাহ (৪২) এবং একই প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র শিক্ষক সুলতানা পারভীন (৪২)।
অলি উল্লাহর বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তেলুয়ারী গ্রামে এবং সুলতানা পারভীনের বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলার মনকান্দা গ্রামে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, জাল সনদের মাধ্যমে মাদরাসাটিতে প্রভাষক পদে অলি উল্লাহ ও আরেকজন এবং জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে সুলতানা পারভীন নিয়োগ পান।
আরও পড়ুন:- শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে বড় পরিকল্পনা, সংসদে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
বিষয়টি জানাজানি হলে মাদরাসার অধ্যক্ষ এএমএম মহিবুল্লাহ ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর নেত্রকোনা আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দুয়া থানায় মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী ওই দিনই মামলা রেকর্ড করা হয় এবং তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ৪ মার্চ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তরা মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
একই সঙ্গে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট নুরুল আলম বলেন, জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ।
তিনি বলেন, “এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়াই স্বাভাবিক। আদালত সেই বিবেচনায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন।”
স্থানীয়ভাবে এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনে এবং প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত করে।
তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই-বাছাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
🧾 তথ্যসূত্র: দৈনিক শিক্ষাডটকম









