৫ শিক্ষক, ক্লাসে মাত্র ৩ শিক্ষার্থী! নীলফামারীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষাসংকট

৫ শিক্ষক, মাত্র ৩ শিক্ষার্থী—নীলফামারীর স্কুলে চরম সংকট

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানির কাকিনা শিশু বিকাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার বাস্তব চিত্র যেন এক ভয়াবহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী উপস্থিতি নেমে এসেছে হাতে গোনা কয়েকজনে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে মাত্র দুজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একজন শিক্ষক পাঠদান করছেন। পাশের চতুর্থ শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী থাকলেও সেখানে কোনো শিক্ষক ছিলেন না। তৃতীয় শ্রেণির কক্ষ সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে ছিল।

একই সময়ে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে একজন শিক্ষককে বসে খাবার খেতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন:- প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে এনসিপি নেতার জবাব

এ সময় প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে শিক্ষকরা দ্রুত হাজিরা খাতা পূরণ করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠে।

বিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭২ জন। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আসে না। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এতে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক আব্দুল করিম বলেন, “স্কুলে ঠিকমতো ক্লাস হয় না, তাই সন্তানদের পাঠাতে আগ্রহ পাই না।”
অন্য অভিভাবক রহিমা বেগম বলেন, “পরিবেশ ভালো না হওয়ায় অনেকেই অন্য স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।”

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোনাব্বর রহমান এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সরকারি ল্যাপটপ বাসায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে জিনিসপত্র নিরাপদ নয়, চুরির আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকার কারণ হিসেবে তিনি জানান, কাগজে-কলমে ৭২ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ জন আসে। সম্প্রতি পাশের পুকুরে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ থাকায় উপস্থিতি কমেছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল সমস্যা হলো নিয়মিত পাঠদান না হওয়া এবং শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি।

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।”

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখতে হলে শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত পাঠদান চালু রাখা এবং কার্যকর তদারকি জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

🧾 তথ্যসূত্র: আরটিভি অনলাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment