২০১৩ সালের এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও পবিত্র কুরআনের অবমাননার প্রতিবাদসহ ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের লক্ষাধিক কর্মী। দিনব্যাপী উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর মধ্যরাতে সমাবেশে অবস্থানরত ঘুমন্ত মানুষের ওপর তৎকালীন র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। তৎকালীন সরকারের নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’ এবং ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। এই অভিযানে ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া না গেলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে অন্তত ৬১ জন নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পরদিন ৬ মে ভোররাতে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনার তথ্য প্রকাশ না পায়।
আরও পড়ুনঃ- ৪০ বছর পর বাড়ি ফেরা জাহানারা, সিনেমার গল্পকেও হার মানালো
ঘটনার পর দীর্ঘদিন ধরে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন মহল সোচ্চার থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি ছিল না। বরং সে সময় ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের অনেকেই হয়রানি ও মামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে নতুন করে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ২১ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এ মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকায় নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে জানা গেছে, পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্থানে সংঘটিত ঘটনারও তদন্ত চলছে।
দিবসটি উপলক্ষে আজ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে বেলা সাড়ে ৩টায় মতিঝিল শাপলা চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেছেন, “শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ঘটনার নাম নয়, এটি দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমরা চাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার হোক এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার বিচার সম্পন্ন হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একইসঙ্গে এটি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র: DBC নিউজ










