দল বড় করতে মাঠে এনসিপি, বিভিন্ন দল থেকে নেতাকর্মী ভেড়ানোর চেষ্টা জোরদার

বিভিন্ন দল থেকে নেতাকর্মী ভেড়াচ্ছে এনসিপি, সংগঠন বিস্তারে জোর

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবার নিজেদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করতে ব্যাপক সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে। দলটি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে নিজেদের দলে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ এমনকি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও এনসিপিতে যোগ দিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়—এমন যে কোনো রাজনৈতিক কর্মীকে দলে স্বাগত জানানো হবে। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা যুক্ত ছিলেন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছেন, তাদের আমরা দলে নিতে চাই। ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।”

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ নেতারাও এনসিপিতে যোগদানের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। তরুণদের অংশগ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপি আলোচনায় উঠে আসে। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা দলটি অল্প সময়ের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬টি আসনে জয়লাভ করে।

এই সাফল্যের পর দলটি নিজেদের আরও বিস্তৃত করতে চায়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব পক্ষকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করছে এনসিপি। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে দলটি।

আরও পড়ুন;- এনসিপিতে যোগে উন্মুক্ত দরজা, তবে বিতর্কিতদের নিষেধ: নাহিদ ইসলাম

এরই মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এবং ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের অন্তত ৪৫ জন নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া আরও অনেক নেতা-কর্মী বিভিন্ন পর্যায়ে দলে যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “কে কোন দল থেকে এসেছে, সেটি আমাদের কাছে বড় বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা এনসিপির আদর্শে বিশ্বাস করে কি না। আমরা একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “দেশে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সহিংসতা রোধে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের বিদ্রোহী ও বঞ্চিত নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে এনসিপি। তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সাবেক বিএনপি নেতা ইসহাক সরকার জানিয়েছেন, এনসিপির সঙ্গে তার যোগাযোগ চলছে। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেও দল থেকে অবহেলার শিকার হয়েছি। এখন এনসিপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে, আমিও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছি।”

অন্যদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ গুজব। যদিও বিভিন্ন দল আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, এনসিপিও করেছে, তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারছে এবং দ্রুত সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দলটি কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নির্ভর করবে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও রাজনৈতিক কৌশলের ওপর।

🧾 তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সূত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment