রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে ছাত্র রাজনীতিতে। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সামনে আহত ডাকসু নেতাদের খোঁজ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি হামলার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “যেভাবে সারা দেশে হামলার ঘটনা ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষ যদি এসব সহিংসতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে, তাহলে দায়ীদের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, অতীতে যেসব ছাত্র নেতারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের অনেককে রক্ষা করার ক্ষেত্রে ডাকসু নেতারা ভূমিকা রেখেছিলেন। অথচ বর্তমানে সেই একই গোষ্ঠীর কিছু নেতাকর্মী হামলার সঙ্গে জড়িত—এ বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্রদলের ভূমিকায় প্রশ্ন
ঘটনার পর ছাত্রদলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই ডাকসু নেত্রী। তিনি বলেন, ছাত্রদল সভাপতির পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হলেও পরে আবার প্রতিবাদ মিছিল করা হয়েছে, যা দ্বৈত আচরণের ইঙ্গিত দেয়।
তার ভাষায়, “একদিকে ‘সরি’ বলা হচ্ছে, অন্যদিকে আবার মিছিল করা হচ্ছে—এ ধরনের রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি তারা এ ধরনের দ্বিচারিতা থেকে বের হয়ে আসবে।”
‘ভুয়া পোস্ট’ নিয়ে বিভ্রান্তি
ঘটনার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ফাতিমা তাসনিম জুমা দাবি করেন, ডাকসু নেতাদের বিরুদ্ধে যে পোস্টের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্য নয়।
তিনি বলেন, “মোসাদ্দেক ও জুবায়েরের নামে যে পোস্টের কথা বলা হচ্ছে, সেটি তারা দেয়নি। তাদের ফোন তখন আমার কাছেই ছিল। বিষয়টি পরিষ্কার করার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।”
ঘটনার পটভূমি
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি বিকৃত ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানা এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে এই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ডাকসুর দুই শীর্ষ নেতাসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
ছাত্র রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা
এই ঘটনার পর ছাত্র রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র রাজনীতিতে সহিংসতা বাড়ছে, যা শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
প্রশাসনের ভূমিকা
এদিকে শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাসের দাবি
ডাকসুর এই নেত্রীসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও সংগঠন শান্তিপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে।
ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “আমরা একটি সহনশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ চাই। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।”
🧾 তথ্যসূত্র: নিউজ২৪বিডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র








