দেশের ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে ভবিষ্যতে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে ১০ বছরের নিচের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রমকে একই মান ও একই কারিকুলামের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীতে ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপটির আয়োজন করে সিপিডির নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই মুহূর্তেই আমরা কার্যক্রমটি শুরু করছি না, কারণ আমাদের নিজেদেরও অনেক কিছু গোছানোর আছে। গত কয়েক বছরে শিক্ষাব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছে। তাই আগে মেরামতের কাজগুলো শেষ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার ধাপে ধাপে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে এবং একসঙ্গে বড় বড় দায়িত্ব গ্রহণের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের পথ বেছে নিয়েছে।
ববি হাজ্জাজ জানান, ভবিষ্যতে ‘আন্ডার টেন ইয়ার ওল্ড’ সব শিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসাসহ শিশু শিক্ষার সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের কারিকুলাম, একই মানদণ্ড এবং একই শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, “আমরা সিমিলার কারিকুলাম ও সিমিলার স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে আসার কাজ করছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে এটি বাস্তবায়ন হবে।”
আরও পড়ুনঃ- আলিয়া মাদরাসায় চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন কওমি সনদধারীরা
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয়ের দাবি উঠছিল। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেই দাবির আংশিক প্রতিফলন ঘটতে পারে।
এদিকে সংলাপে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মানোন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকরা ক্লাসরুমে যাবেন না—আমরা এরই মধ্যে সেই পদক্ষেপ নিয়েছি।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের অপেক্ষায় থাকা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণ না নেওয়ায় শ্রেণিকক্ষে যেতে পারছেন না। এ সিদ্ধান্তের কারণে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও মিছিলও হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রশ্নে আপস করবে না বলেও জানান। তিনি বলেন, “তারা প্রশিক্ষণ শেষ করে আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা এবং শিশু শিক্ষাকে একই মানদণ্ডে নিয়ে আসার উদ্যোগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও নীতিগত সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি হবে।
তথ্যসূত্র: টিডিসি রিপোর্ট









