দেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে কওমি মাদ্রাসার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরবি শিক্ষক নিয়োগ, দাওরা হাদিসের সনদের মান নির্ধারণ এবং কওমি শিক্ষার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। বিশেষ করে আরবি শিক্ষার মান উন্নয়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “কওমি মাদ্রাসা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাধারা। এ খাতের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, কওমি শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হলে সনদের মান নির্ধারণ এবং পাঠ্যক্রমে আধুনিকতার সংযোজন জরুরি। দাওরা হাদিসের সনদের মান ও স্বীকৃতি নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে একটি সুসংহত কাঠামো তৈরিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন;- উৎসব ভাতা বৃদ্ধি ও এমপিওভুক্তির জন্য বড় অংকের বাজেট অনুমোদন
বৈঠকে কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা বলেন, দাওরা হাদিস সনদের মান নির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে আরবি ভাষা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এছাড়া কওমি মাদ্রাসাগুলোতে প্রশিক্ষিত শিক্ষক সংকটের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য আধুনিক বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।
বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই বৈঠক কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তারা আশা করছেন, আলোচনার ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে কওমি শিক্ষা আরও আধুনিক ও কার্যকর ধারায় রূপান্তরিত হবে।
তথ্যসূত্র: শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র








