উৎসব ভাতা বৃদ্ধি ও এমপিওভুক্তির জন্য বড় অংকের বাজেট অনুমোদন

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য উৎসব ভাতা ও নতুন বরাদ্দ অনুমোদন

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়তি উৎসব ভাতা প্রদান এবং নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দে অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ অনুমোদন মিলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে একটি ডিও লেটার পাঠান। সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, অর্থ বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন ও শিক্ষাখাতের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই বরাদ্দ যথেষ্ট নয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দেয় বর্তমান সরকার। সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করা, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জানা গেছে, মার্চ ২০২৬ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ১৬০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে জুলাই-আগস্ট অংশ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অন্তর্ভুক্ত। এই দুই মাসের কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজন প্রায় ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, পরবর্তী ১০ মাসের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে প্রায় ৯ হাজার ৩৩০ কোটি ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৯ হাজার ৭৭৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বেসরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রস্তাবিত ২০০ কোটি টাকার বাইরে আরও প্রায় ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন;- পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা ফের চালুর কোনো সম্ভাবনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

সর্বমোট হিসাব অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য নির্ধারিত ৫০ হাজার ৩১৯ কোটি টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা যুক্ত করে মোট বাজেট ৬০ হাজার ৪৯৭ কোটি ৮০ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব আংশিক অনুমোদন করেছে। যদিও পুরো চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, তবে অনুমোদিত অর্থ দিয়েই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা প্রদান এবং নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই বরাদ্দের ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। বিশেষ করে উৎসব ভাতা বৃদ্ধি শিক্ষকদের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগেও বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। তারা মনে করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এই অর্থ শিক্ষা খাতের গুণগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 তথ্যসূত্র: আমাদের বার্তা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment