সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও দীর্ঘদিন নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় থাকা প্রার্থীদের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনরত প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, হতাশা ও অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রার্থীরা জানান, তারা সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া, পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করলেও এখনো নিয়োগ ও পদায়ন হয়নি। এতে তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন দেবব্রত, জান্নাতুল ইসলাম টনি, পারভেজ, আফসানা, জান্নাতুল ফেরদৌস শান্তা, ফারজানা ও শিশির। তারা প্রতিমন্ত্রীর কাছে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।
প্রার্থীদের অভিযোগ, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই চাকরির আশায় পূর্বের কর্মস্থল ছেড়ে দিয়েছেন, ফলে আর্থিক সংকটেও পড়েছেন।
আরও পড়ুন:- সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ নেই: প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
আন্দোলনকারীরা জানান, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পুনঃতদন্ত শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এরপরও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে তারা জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রার্থীদের বক্তব্য শোনার পর তাদের দাবি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার চায় যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা দ্রুত শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হোক, যাতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘসূত্রতা দূর করে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে শিক্ষকের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
🧾 তথ্যসূত্র: দৈনিক শিক্ষাডটকম







