সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চলমান প্রক্রিয়া রিভিউ করা হচ্ছে না এবং এটি আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এগিয়ে নেওয়া হবে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় একান্ত আলাপচারিতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক শ্রেণিকক্ষ কার্যত ফাঁকা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়া রিভিউ করছি না। নিয়োগ যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে।”
এর আগে, শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিলেও সাম্প্রতিক এক বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে মন্ত্রী, সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ- সুপারিশ পেয়েও ঝুলে আছে চাকরি! প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে সমাধানের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। তিনি বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, তবে যে প্রতিবেদন আমরা পেয়েছি তাতে ন্যূনতম আস্থা রাখা যায়।”
জানা গেছে, ২০২৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম দুই ধাপে সম্পন্ন করা হয়। প্রথম ধাপে গত ৫ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় ধাপে ১২ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রথম ধাপে ৮ থেকে ২১ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৪ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে তা পরিবর্তন করে ৯ জানুয়ারি নেওয়া হয়। দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) একযোগে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থী। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় ২১ জানুয়ারি, যেখানে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন উত্তীর্ণ হন।
এরপর ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।
তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আড়াই মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানপত্র দেওয়া হয়নি। এতে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে চায়, যাতে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট দূর হয় এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত পায়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের অনিশ্চয়তাও দূর হবে।
🧾 তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস






