স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাস, অবদান ও বর্তমান সংকট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ আবেদন জানিয়েছেন ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য জনাব শামসুল আলম। তিনি বলেন, এই শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়েও এ খাতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ইবতেদায়ি মাদরাসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ- স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বাদ পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ড্রেস,জুতাও ব্যাগ থেকে
শামসুল আলম বলেন, “স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা কোনো নতুন বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা ধারা, যার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া এ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে এই খাত নানা সংকটে রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা অনিয়মিত, অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো সরকারি স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।”
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্যও উপবৃত্তি, ড্রেস, জুতা ও শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার একটি বড় অংশ হিসেবে ইবতেদায়ি মাদরাসাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে এই খাত পিছিয়ে পড়বে। তাই দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক নেতৃবৃন্দের আবেদন








