শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াতের শিক্ষা নেতাদের বৈঠক, ২০ দফা দাবিনামা হস্তান্তর

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াতের শিক্ষা নেতাদের বৈঠক, ২০ দফা দাবিনামা হস্তান্তর

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শিক্ষামন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে জামায়াতের শিক্ষা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। বৈঠকে দেশের বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইবতেদায়ি মাদরাসা, অবসর সুবিধা, কল্যাণ তহবিল এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন- স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে ৭৮% মানুষের সমর্থন

সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সদস্য সচিব ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের ২০ দফা দাবি সম্বলিত দাবিনামা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের হাতে তুলে দেন। তবে বৈঠকে এই ২০ দফা দাবির মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি বিশেষভাবে আলোচনা করা হয় বলে জানা গেছে। আলোচনার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শতভাগ উৎসব বোনাস প্রদান, সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা, অবসর ভাতা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করা এবং সচল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ইবতেদায়ি মাদরাসাসহ এমপিওভুক্তির গেজেট ঘোষণা করে সেপ্টেম্বর মাস থেকে বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা।

সভায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা বৈষম্য ও বঞ্চনার মধ্যে রয়েছেন। শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর হলেও তাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয়করণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অন্তত শতভাগ উৎসব বোনাস, সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, যারা সারা জীবন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রম দিয়ে অবসরে যান, তাদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ তহবিলের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অবসর গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে যেন শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা অর্থ তাদের হাতে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৈঠকে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সচল রয়েছে, শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে, স্বীকৃতিও রয়েছে; কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই সচল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইবতেদায়ি মাদরাসাসহ এমপিওভুক্তির গেজেট ঘোষণা করে সেপ্টেম্বর মাস থেকে বেতন-ভাতা প্রদানের দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম সভায় বলেন, বিগত ১৬ বছরে রাজনৈতিক কারণে অনেক শিক্ষক অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত বা বরখাস্ত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থন করার অভিযোগে অনেক শিক্ষক ২ বছর, ৪ বছর, ৫ বছর এমনকি ১৬ বছর পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতা পাননি। তাদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ অবসর নিয়েছেন, আবার কেউ চাকরিতে বহাল হয়েছেন; কিন্তু বরখাস্ত বা সাসপেন্ড থাকা সময়ের বকেয়া বেতন-ভাতা এখনো পাননি। তিনি এসব বকেয়া দ্রুত পরিশোধের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি সৎ, যোগ্য ও শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অবিলম্বে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমস্যাগুলো সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের কাজ চলমান রয়েছে। উৎসব ভাতা আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। অবসর সুবিধা ভাতা ও কল্যাণ ফান্ডের অর্থ যেন শিক্ষক-কর্মচারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পেতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে উত্থাপিত দাবি ও ২০ দফা দাবিনামার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রফেসর ড. এম কোরবান আলী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. উমার আলী, প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা এমপি, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম, কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজিজ, মাসুদ সাঈদী এমপি, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞপ্তি ও সভা সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment