পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা ফের চালুর কোনো সম্ভাবনা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা বাতিলের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সময়ে এই পরীক্ষাগুলো ছিল না। পরবর্তীতে এগুলো চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এখন যারা একসময় এ পরীক্ষার পক্ষে ছিলেন, তারাই আবার বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।”
মন্ত্রী জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ কমাতে এ ধরনের পাবলিক পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে বারবার পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছিল বলে বিভিন্ন মহল থেকে মতামত আসে।
আরও পড়ুন;- জাতীয় সংসদ অধিবেশন দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ১৫০ শিক্ষার্থী
করোনা মহামারির সময় শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এরপর শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সময়োপযোগী করতে সরকার নতুন করে পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করে। বর্তমানে ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতির (Continuous Assessment) ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের সারাবছরের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা যায়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এটি একটি পরীক্ষিত বিষয়। তাই নতুন করে এ বিষয়ে ভাবার কোনো অবকাশ নেই। আমরা এখন শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা পুনরায় চালু না করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমাবে এবং তাদের শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে।








