জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের একটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—শূন্য হওয়া আসনটি কীভাবে পূরণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রার্থিতা বহাল না থাকলে ওই আসনে উপনির্বাচনের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচন করা হবে এবং তখন আসনটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় জামায়াত জোটের শরিক দল এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর তিন বছর না পেরোলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হন।
মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
তবে বাতিল হওয়া এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে তার। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন এবং সেখানে প্রার্থিতা ফিরে না পেলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পথও খোলা রয়েছে।
মনিরা শারমিন ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তিনি আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে আপিল করবেন। তার আইনজীবীও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন পদ্ধতি অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল ও জোটের মধ্যে আসন বণ্টন করা হয়। এবার বিএনপি জোট পেয়েছে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ১টি আসন। সেই অনুযায়ী সমসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।
কিন্তু একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় জামায়াত জোটের একটি আসন আপাতত শূন্য হয়ে পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, “সংরক্ষিত নারী আসনে সাধারণত ভোটাভুটির প্রয়োজন হয় না, কারণ সমসংখ্যক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে কোনো আসন শূন্য হলে সেখানে উপনির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে ওই আসন আর নির্দিষ্ট কোনো জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং নতুন করে সব দল প্রার্থী দিতে পারবে।”
এই ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরাই ভোটার হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। প্রয়োজন হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে ওই আসনে সদস্য নির্বাচন করা হবে।
ইসি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে এলে আসনটি পূর্বের মতোই সংশ্লিষ্ট জোটের দখলে থাকবে। অন্যথায় উপনির্বাচনের পথেই এগোতে হবে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে এমন পরিস্থিতি বিরল। অতীতে এসব আসনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আপিল করা যাবে এবং ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি হবে। ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দের পর আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে, যা ২০৪৩ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
🧾 তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন, ঢাকা পোস্ট ও সংশ্লিষ্ট সূত্র










