রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মধ্য দিয়ে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিন মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে এজলাসে তোলা ও নামানোর সময় সাংবাদিকদের সামনে হঠাৎ করেই ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির ওপর ধর্ষণ ও হত্যার দায় চাপিয়ে নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে সোহেল রানা বারবার বলতে থাকেন, “ধর্ষণ করছে ডলার। তাকে ধরেন। মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ডলার আমাকে ২ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল। আমি শুধু লাশ গুম করতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি।” তিনি আরও দাবি করেন, ডলার তাকে নেশা করিয়েছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সোহেল জানান, ডলারের বাসা মিরপুর ১১ নম্বরে এবং সে অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের সন্তান। তবে এদিন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন পুরোপুরি নিশ্চুপ।
সোহেলের এমন দাবির পর প্রশ্ন উঠেছে কে এই ডলার? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পল্লবীতে সোহেলের ভাড়া বাসার কাছেই ডলারের বাড়ি। পেশায় অটোরিকশাচালক ডলার একজন মাদকাসক্ত। রিকশার গ্যারেজ মেকানিক হওয়ার সুবাদে সোহেলের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল। ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান জানান, নেশার কারণে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে ডলারের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে ডলারের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা থাকলে তারও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ডলারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণে ঘটনাস্থলে ডলারের কোনো উপস্থিতি বা সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এমনকি গ্রেপ্তারের পর সোহেল বা তার স্ত্রীও ডলারের নাম উল্লেখ করেননি। প্রতিবেশী ডলারের সঙ্গে সোহেলের পূর্বশত্রুতা থাকায় এবং বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতেই সে এখন নতুন নাটক সাজাচ্ছে বলে ধারণা পুলিশের। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুও জানান, অপরাধ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যেই আসামি মিডিয়ার সামনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর গ্রিল ভেঙে পালানোর সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে বাসা থেকে এবং ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সোহেল রানা এবং ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে পুলিশ এই মামলার চার্জশিট জমা দেয়।
সূত্র- দৈনিক কালবেলা
আরও পড়ুনঃ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, শিশুর বর্ণনায় উঠে এলো ভয়াবহ তথ্য









