স্মার্ট মিটারে ‘ডিজিটাল ধোঁকা’, ভোগান্তিতে গ্রাহক—সংকটে ডিপিডিসি

স্মার্ট মিটারে ভুয়া বিল আতঙ্ক, সংকটে ডিপিডিসি

রাজধানীর বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আধুনিক ও স্বচ্ছ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চালু হওয়া স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার প্রকল্প এখন উল্টো বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, স্মার্ট মিটার সঠিক হিসাব না দেখিয়ে কখনো অতিরিক্ত টাকা কেটে নিচ্ছে, আবার কখনো ব্যালেন্সে অস্বাভাবিক ওঠানামা করছে। ফলে ‘ভুয়া বিল’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নগরজুড়ে।

মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, যেসব মিটার ব্যবহার অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিল দেখানোর কথা, সেগুলোই অনেক ক্ষেত্রে ভুল হিসাব দিচ্ছে। হঠাৎ ব্যালেন্স কমে যাওয়া, রিচার্জ না করলেও টাকার পরিবর্তন, ডিসপ্লে ও অ্যাপের তথ্যের অমিল—এসব সমস্যা নিয়মিত ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা।

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান মাহমুদ বলেন, “২ হাজার টাকা রিচার্জ করার পর একদিনেই ব্যালেন্স নেমে যায় কয়েকশ টাকায়। আবার কয়েকদিন পর হঠাৎ বেড়ে যায়। কিছুই বোঝা যায় না।”

এ ধরনের অভিযোগ এখন বিচ্ছিন্ন নয়। প্রতিদিনই বহু গ্রাহক একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কেউ বলছেন, অস্বাভাবিকভাবে টাকা কাটা হচ্ছে, আবার কেউ বলছেন, রিচার্জ করার পরও ব্যালেন্স মিলছে না।

শুধু প্রি-পেমেন্ট নয়, কিছু পোস্ট-পেইড মিটারেও অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ উঠেছে। এক গ্রাহক জানান, তার স্বাভাবিক বিল ১২০০ টাকা হলেও এক মাসে তা ৩৫০০ টাকায় পৌঁছায়, পরে অভিযোগ দিলে তা কমানো হয়।

আরও পড়ুন:-শহীদ জিয়ার খাল খনন উদ্যোগ আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে সম্প্রসারিত—প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

এদিকে গ্রাহক ভোগান্তির পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) নিজেও পড়েছে বড় সংকটে। পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়াই বিপুল সংখ্যক মিটার আমদানি করায় এখন চার লাখের বেশি মিটার গুদামে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এগুলো বিকল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে অনুমোদিত এ প্রকল্পের ব্যয় ছিল প্রায় ৬৫৮ কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ৮৩৪ কোটির বেশি হয়েছে। কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মিটার আমদানি করা হলেও বসানো হয়েছে মাত্র আড়াই লাখের মতো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল সমস্যা প্রযুক্তিগত এবং পরিকল্পনাগত। মিটার ডাটা ম্যানেজমেন্ট (এমডিএম) সিস্টেম পুরোপুরি প্রস্তুত না রেখেই মিটার স্থাপন শুরু করা হয়েছে। ফলে ডাটা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে না এবং ভুল হিসাব তৈরি হচ্ছে।

নেটওয়ার্ক সমস্যাও বড় একটি কারণ। মিটারগুলো নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় সার্ভারে ডাটা পাঠাতে না পারলে ব্যালেন্সে গরমিল দেখা দেয়। এতে কখনো অতিরিক্ত টাকা কাটা হচ্ছে, আবার কখনো কম দেখানো হচ্ছে।

ডিপিডিসির এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। প্রযুক্তিগত দুর্বলতা, যন্ত্রাংশের সংকট এবং দক্ষ জনবলের অভাবে সমস্যা আরও বেড়েছে।

তবে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোরশেদ আলম খান বলেন, “নতুন প্রযুক্তি চালুর শুরুতে কিছু সমস্যা থাকতেই পারে। আমরা ধীরে ধীরে সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে এবং কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে গ্রাহকদের আস্থা আরও কমে যাবে এবং শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

🧾 তথ্যসূত্র:কালবেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

Bangla Daily News-এর নিজস্ব প্রতিবেদকরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নির্ভুলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে তারা সর্বদা সচেষ্ট।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment