সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ড্রেস, জুট ব্যাগ ও জুতা প্রদানের নতুন সিদ্ধান্তে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বাদ পড়ায় শিক্ষা খাতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরণের বৈষম্য অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইবতেদায়ি সেকশনে শিক্ষার্থী পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যাবে।
সরকার সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুনভাবে ড্রেস, জুট ব্যাগ ও জুতা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ সুবিধার আওতায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে শিক্ষক ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, এ ধরনের বৈষম্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীরা বাদ পড়ছে। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুন্নতি ও বৈষম্য বাড়াচ্ছে,” বলেন তারা।
আরও পড়ুনঃ- স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে ৭৮% মানুষের সমর্থন
শিক্ষক নেতাদের দাবি, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মতো ড্রেস, জুট ব্যাগ ও জুতা পাওয়ার অধিকার রাখে। “এই সুবিধা ছাড়া শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দূরে সরে যাবে, যা শিক্ষার সামগ্রিক মান ক্ষুণ্ণ করবে,” বলেন তারা।
অভিভাবকরাও এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। তারা মনে করছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাবে। এক অভিভাবক বলেন, “আমরা চাই আমাদের সন্তানদেরও সমান সুযোগ দেওয়া হোক। বৈষম্য চলতে থাকলে তারা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাবে।”
শিক্ষক নেতারা সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরও ড্রেস, জুট ব্যাগ ও জুতা সহ অন্যান্য সহায়তা দ্রুত চালু করতে। তারা সতর্ক করেছেন, তা না হলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ হারাবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সমান সুবিধা না দেওয়া হলে ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে তাল মিলাতে পারবে না। “শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমান সুযোগ ও সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি, নাহলে ভবিষ্যতে শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে,” বলেন তারা।
উপবৃত্তি, মিড ডে মিল, ড্রেস, জুতা ও জুট ব্যাগের মতো সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন রক্ষা ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।








