দেশের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে অনলাইনে যৌন উত্তেজক ওষুধের ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) রাতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
কীভাবে চলত প্রতারণা
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল। তারা কৌশলে দেশের পরিচিত ব্যক্তিদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করত।
বিশেষ করে ড. মিজানুর রহমান আজহারীর জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্যের প্রচারণা চালানো হতো। এসব বিজ্ঞাপনে দাবি করা হতো, নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করলে অল্প সময়েই ‘অলৌকিক’ ফল পাওয়া যাবে।
ভুয়া গল্পে ফাঁদ
প্রতারক চক্রটি ভুয়া সাফল্যের গল্প, সাজানো রিভিউ এবং মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করত। অনেক ক্ষেত্রে নকল স্ক্রিনশট, ফেক কমেন্ট ও ভিডিও তৈরি করে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো হতো।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পণ্য অধিকাংশই নিম্নমানের বা সম্পূর্ণ অকার্যকর ছিল। কিন্তু চক্রটি উচ্চমূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়।
আরও পড়ুন:- সরকারি দায়িত্ব শেষে আবারও শিক্ষকতায় ফিরলেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
অভিযান ও গ্রেপ্তার
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরির সরঞ্জাম, একাধিক মোবাইল ফোন, কম্পিউটার এবং বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন,
“এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র। তারা পরিকল্পিতভাবে মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
আইনি ব্যবস্থা
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, অনলাইনে ভুয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতারণা প্রতিরোধে তারা নিয়মিত নজরদারি জোরদার করেছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পণ্য কেনার আগে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিচিত ব্যক্তির ছবি বা নাম ব্যবহার করলেই সেটি সত্য নয়। অনেক সময় এসব বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ ভুয়া হয়ে থাকে।
বাড়ছে সাইবার প্রতারণা
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অনলাইন প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে উঠছে।
তাই সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
🧾 তথ্যসূত্র: টিডিসি রিপোর্ট ও ডিএমপি ব্রিফিং









